neditor
২১ অগাস্ট ২০২৬, ৯:৪১ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

টাকা ছিটিয়ে সাংবাদিক কার্ড নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ নেতা কামরুলের

* এনজিওতে কর্মরত নারীকে যৌনহয়রানির অপরাধে অবশেষে গ্রেফতার

টাকা দিয়ে সাংবাদিকতার কার্ড ও পদ-পদবি বাগিয়ে নিয়ে পরিচয় আড়ালের চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হলো না টেকনাফ উপজেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলামের। নারী নির্যাতন ও যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এই নেতাকে অবশেষে পুলিশের হাতে আটক করা হয়েছে।বুধবার (২০ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় দায়ের করা একটি নারী নির্যাতন-সংক্রান্ত মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।মামলা সূত্রে জানা যায়, মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের এক নারী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। ওই নারীকে একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থায় উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন কামরুল। চাকরি পাইয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে আর্থিকভাবে সন্তুষ্ট করার কথা বলে ওই নারীকে তার সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়। সরল বিশ্বাসে কামরুলের সঙ্গে দেখা করতে গেলে ওই নারীর কাছ থেকে প্রায় আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়। এসময় তার সাথে শারীরিকভাবে অসদাচরণ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়।পরে ভুক্তভোগী নারী আইনি প্রতিকার চেয়ে কক্সবাজার সদর থানায় যোগাযোগ করেন। আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজুর জন্য কক্সবাজার সদর মডেল থানাকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলাটি রুজু করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।এদিকে কামরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। তার বিরুদ্ধে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ ও নারী নির্যাতনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, হোয়াইক্যং, কাঞ্জরপাড়া ও লম্বাবিল এলাকার দরিদ্র নারীদের ৩০ কেজি চালের কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া এবং বিভিন্ন এনজিওতে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে মহেশখালী, ঈদগাঁও, চকরিয়া, টেকনাফ ও উখিয়ার একাধিক নারীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।স্থানীয় সাংবাদিকদের কয়েকজনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করতে কামরুল নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। একটি স্থানীয় দৈনিকের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা বলছেন, ব্যক্তিগত অপরাধ বা রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করতে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করা হলে এতে পেশাটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। প্রকৃত সাংবাদিকদের পরিচয় ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় ভুয়া বা অপব্যবহারকারী পরিচয়ধারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতেই কামরুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পালংখালী যুবলীগের কমিটিতে দুই মাদক গডফাদারের অন্তর্ভুক্তির তৎপরতার অভিযোগ

টাকা ছিটিয়ে সাংবাদিক কার্ড নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ নেতা কামরুলের

জাতীয় দৈনিক “ মুক্ত খবর” পত্রিকার কক্সবাজার সদর প্রতিনিধি নিয়োগ পেয়েছেন দৈনিক আপন কন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার স্বপন কান্তি দে

রূপগঞ্জে লিনা পেপার মিলে চুরি ঠেকাল আনসার, মালামালসহ আটক ১

বাংলাদেশ সাংবাদিক সংস্থা (বাসাস)-এর কক্সবাজার জেলা শাখার ৩১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন

ঝিলংজা ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রাশেদ-এর ত্রাণ কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি রাকিব

কক্সবাজারে তিন দিনব্যাপী সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন, মূল্যায়ন পরীক্ষায় প্রথম রোমানা আক্তার

বাসাস এর ঘোষণা- সারাদেশে কমিটি গঠন ও নির্যাতিত সাংবাদিকদের পাশে থাকার 

উখিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে আপত্তিকর অবস্থায় দুই এনজিও কর্মী আটক

সাংবাদিককে ফাঁসাতে গিয়ে অবশেষে অস্ত্র মামলায় কারাগারে রাক্ষুসে নারী অজুফা বেগম

১০

পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি! সাংবাদিক ফরহাদকে ফাঁসাতে গিয়ে অবশেষে অস্ত্র মামলায় কারাগারে দক্ষিণ ডিক্কুলের বাসিন্দা অজুফা বেগম।

১১

দৈনিক কক্সবাজার একাত্তর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আবুল হাশেম

১২

রাজশাহীর পুঠিয়ায় জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে আদিবাসীদের বাড়ি ভাংচুর, উচ্ছেদ,লুটপাটের অভিযোগ

১৩